বুসান চুক্তির প্রতিশ্রুতি এখনই বাস্তবায়নে চীনকে তাগিদ যুক্তরাষ্ট্রের
বুসান বাণিজ্য চুক্তির প্রতিশ্রুতি দেরি না করে পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে চীনকে তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই তাগিদ দেন।
শুক্রবার আলোচনার ঘোষণা দিয়ে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বেসেন্ট বুসানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি চীনকে পুরোপুরি ও অবিলম্বে বাস্তবায়ন করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং সম্প্রতি চীনের কিছু পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরেছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বেসেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, অগ্রগতি অব্যাহত থাকা নির্ভর করবে বাস্তব ফলের ওপর এবং এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নে চীনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করবে।
বুসান চুক্তিটি ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে আলোচনায় ঠিক হয়েছিল। ওই চুক্তিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং শুল্ক কমাতে এবং প্রযুক্তির ওপর বিধিনিষেধ তুলে নিতে সম্মত হন, যাতে পাল্টাপাল্টি শুল্কের উত্তেজনা কমে। ওই শুল্ক প্রথমে ওয়াশিংটন আরোপ করেছিল, পরে বেইজিংও পাল্টা শুল্ক বসায়।
বৃহস্পতিবার চীন বলেছে, বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ পারস্পরিক শুল্ক ছাড় বাস্তবায়নে সম্মত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও কৃষিপণ্য কিনতে তারা আগ্রহী।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়াং লিং এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনা বাড়ানোর বিষয়ে চীন বরাবরই খোলা মনোভাব রেখেছে, তবে তা কেবল এই শর্তে যে দুই পক্ষ তাদের সম্মত ‘৩০ বিলিয়নের বদলে ৩০ বিলিয়ন’ পারস্পরিক শুল্ক-ছাড়ের ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করবে।
সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প ও সির বৈঠকের পরের এই পদক্ষেপে হোয়াইট হাউস ৬০ বিলিয়ন ডলারের ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, যার মধ্যে ১৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন কৃষিপণ্য ছিল।
মে মাসে হোয়াইট হাউস বলেছিল, ২০২৬ সাল থেকে প্রতি বছর ১৭ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কিনতে বেইজিং সম্মত হয়েছে এবং এ বছরের লক্ষ্য আনুপাতিক হারে সমন্বয় করা হয়েছে। এই কেনাকাটা গত অক্টোবরে মার্কিন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতির অতিরিক্ত ছিল।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, বেসেন্ট মার্কিন শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের উপকারে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করে—এমন বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নীতির প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের অঙ্গীকার আবারও জানিয়েছেন।




