ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নষ্ট করেছে জামায়াত, অভিযোগ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের
ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার সম্ভাবনা জামায়াতে ইসলামীর ক্ষমতার লোভের কারণেই নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে 'সীরাত গবেষক সংবর্ধনা ২০২৬' উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই ইসলামী দলগুলোকে, বিশেষ করে কওমি ঘরানার দলগুলোকে এক মঞ্চে আনার আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগে জামায়াতে ইসলামীসহ আরও কয়েকটি দলও যুক্ত ছিল।
জামায়াতের অবস্থানের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে এমনটি বুঝতে পেরেই জামায়াত দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসলামি দলগুলোর মধ্যকার সেই ঐক্যের সুন্দর পরিবেশ নষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামের নীতি ও আদর্শ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা গেলেই কেবল দেশে প্রকৃত শান্তি, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব। অথচ গত ৫৫ বছর ধরে যে নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হতে দেখা গেছে, সেই একই পুরোনো নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশা করা সম্পূর্ণ অমূলক ও অযৌক্তিক।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে পীর সাহেব চরমোনাই পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের মানুষকে সত্যিকারের মুক্তি ও শান্তি দিতে হলে ইসলামের সুমহান নীতি ও আদর্শ বাস্তবায়নের আর কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'কোনও ডিসেম্বরেই "আপা" দেশে আসার সুযোগ নেই। এলেও তার জন্য ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত আছে।'
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তি আয়োজিত নবীনবরণ ও 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা' শীর্ষক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, 'বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা এখনও ঘুমিয়ে পড়েনি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ঘুমিয়ে পড়েনি। আপনাদের সেটার প্রমাণ দিতে হবে। আপনারা শুধু নোয়াখালী বিভাগ চাই বলে আন্দোলন করবেন না। আপনারা পুরো দেশ নিয়ে ভাববেন, পুরো বিশ্ব নিয়ে ভাববেন—এর নামই বিশ্ববিদ্যালয়।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বে কোথায় কী চিন্তা হচ্ছে, কী ঘটছে—একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে সেসব বিষয়ে জানতে হবে। গ্লোবাল মার্কেটের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে।
৭ নভেম্বর প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, '৭ নভেম্বরকে আমরা ধারণ করি। ৭ নভেম্বর বিপ্লব, কিন্তু জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কি বিপ্লব নয়? বর্তমান সরকার যা তাদের পক্ষে যায়, সেটাকে বিপ্লব বলে, আর যা তাদের পক্ষে যায় না কিংবা যেখানে তাদের নেতৃত্ব ছিল না, সেটাকে বিপ্লব না বলে কেবল আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থান হিসেবে আখ্যা দেয়।'
আগামী ডিসেম্বর মাসে দেশে কারও ফিরে আসার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'আগামী ডিসেম্বর মাসে নাকি কেউ দেশে আসতে চাচ্ছেন, আপনারা কি জানেন? আমরা কি প্রস্তুত আছি? জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যেভাবে প্রস্তুত ছিলাম, এবার কি আছি? এবার প্রতিরোধ আগের চেয়ে বেশি হবে, না কম হবে?'
বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আগেরবার আমরা অনেক উদারতা দেখিয়েছি, আমরা ক্ষমা করে দিয়েছিলাম। আমরা ওসমান হাদির ভাষায় বলেছিলাম—শত্রুর প্রতিও আমরা ইনসাফ করবো, ন্যায়বিচার করবো। কিন্তু গত দুই বছরে আমরা কোনও বিচার পাইনি। ওসমান হাদি হত্যার বিচার পাইনি, জুলাইয়ের শহীদ ভাইবোনদের হত্যার বিচার পাইনি। জনগণ যখন ন্যায়বিচার পায় না, তখন তারা নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে শুরু করে।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম আহ্বায়ক নিজাম উদ্দিন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক তাহমিদ আল মুদ্দাসসীর চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেলে এক বিবৃতিতে দলটি এই আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত হয়েছিল ঐতিহাসিক সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান। এই ঐতিহাসিক দিনে আমরা স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে। তার স্মৃতির প্রতি এনসিপি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএনপি জুলাই সনদের মতো সংবিধানের মৌলিক পরিবর্তনকে আবারও অষ্টাদশ সংশোধনীর মধ্যে সংকুচিত করতে চাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো সময় আদালত বা পরবর্তী সংসদের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। দলটি বিএনপির প্রতি আহ্বান জানায়, গণভোটের গণরায়কে সম্মান করে অবিলম্বে তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন এবং গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন।

