অভিষেকের দিনেই টেস্টকে বিদায় বললেন মোহাম্মদ শামি, ৬৪ ম্যাচে ২২৯ উইকেটের ক্যারিয়ারের ইতি
২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর আর ভারত জাতীয় দলে সুযোগ মেলেনি তারকা পেসার মোহাম্মদ শামির। আর টেস্ট ফরম্যাটে তিনি শেষবার খেলেছিলেন ২০২৩ সালে। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে লম্বা সময় বোলিং নিয়ে যার অনিশ্চয়তা রয়েছে, তার জন্য টেস্ট খেলা আরও দুরূহ বিষয়। জাতীয় দলে উপেক্ষিত এই ক্রিকেটার টেস্ট ফরম্যাট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী তারকা।
২০১৩ সালে ঠিক ১৩ বছর আগে যে দিন (৬ নভেম্বর) তাঁর অভিষেক হয়েছিল, ঠিক সেই দিনেই তিনি টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন।
ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ক্যারিয়ারসেরা স্পেল করেন শামি। ১১৮ রানে শিকার করেন ৯ উইকেট।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ৬৪ টেস্ট খেলেই থামছেন শামি, যেখানে তাঁর শিকার ২২৯ উইকেট। ফরম্যাটটিতে সবমিলিয়ে ভারতের ১২তম বোলার এবং পেসারদের মধ্যে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তিনি।
ছয়বার ফাইফার নেওয়া শামি সাদা পোশাকে সর্বশেষ ২০২৩ সালের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছেন।
টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণায় শামি বলেছেন, ১৩ বছরের এই যাত্রায়, এই ক্যাপ ও বলই আমাকে 'মোহাম্মদ শামি' করে তুলেছে।
তিনি বলেন, অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছি, পড়ে গেছি, আঘাত পেয়েছি, চোট পেয়েছি। কিন্তু এই ব্যাজটির সম্মানের খাতিরে আমি আবারও উঠে দাঁড়িয়েছি। সবমিলিয়ে এই ১৩ বছরের যাত্রাটা দারুণ ছিল।
নিজের এতদূর আসার পেছনে কোচ, ট্রেইনার, ফিজিও—যাঁরা সামান্যতম অবদানও রেখেছেন—তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাতে চান বলে জানিয়েছেন শামি।
নিজের এতদূর আসার পেছনে ভক্তদের অবদান স্বীকার করে তিনি বলেন, বিশেষত ভক্তদের ধন্যবাদ। ক্রিকেট সমর্থকরা আমাকে যে পরিচিতি দিয়েছেন এবং যে উৎসাহ জুগিয়েছেন, তা চিরকাল মনে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ৬ নভেম্বর আমি এই ক্যাপটি পেয়েছিলাম, আর আজ ৬ নভেম্বর, এই ১৩ বছরের যাত্রার এখানেই ইতি টানছি। যেদিন অভিষেক হয়েছিল, ঠিক সেদিনেই আমি অবসর নিচ্ছি।
টেস্টকে বিদায় বললেও সংক্ষিপ্ত সংস্করণে খেলা চালিয়ে যাবেন বলে নিশ্চিত করেন শামি। তিনি বলেন, আমি টেস্ট ছেড়ে যাচ্ছি, তবে সাদা বলের ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাব, সেটা আইপিএল হোক বা ঘরোয়া ক্রিকেট।
তিনি আরও জানান, আর যদি ফিটনেস ঠিক থাকে, তাহলে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটও চালিয়ে যেতে পারি, তবে আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেট নয়।




