রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া হুথি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করল সৌদি আরব
সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বলেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরবের দিকে ছোড়া হয়েছিল।
জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি রোববার এক্সে এক পোস্টে জানান, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের দিকে ছোড়া হয়েছিল। এর আগে তিনি নিশ্চিত করেন, হুথিদের ছোড়া আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের দিকে ছোড়ার পর তা প্রতিহত করা হয়েছে।
এই হামলা এমন সময়ে ঘটল, যখন ইয়েমেনজুড়ে লড়াই তীব্র হচ্ছে। হুথি, যারা আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত, এবং সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। সরকারি বাহিনী গত মাসে রাজধানী সানাসহ হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে।
হুথি-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি শনিবার বলেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় সানার কাছে আল-শারিয়া গ্রামে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন নারী ও ১৩ জন শিশু রয়েছে।
এক্সে এক পোস্টে আল-আসবাহি বলেন, শনিবার ওই হামলায় আরও অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। হামলায় গ্রামের বাড়িঘর, সড়ক, প্যারামেডিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। গ্রামটি সানার পূর্বে বানি হুশাইশ জেলায় অবস্থিত।
এই হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আল জাজিরা প্রতিবেদনগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হুথি-সমর্থিত গণমাধ্যম রোববার জানিয়েছে, সাদা প্রদেশের শাদা সীমান্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায়ও গোলাবর্ষণ হয়েছে।
হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে এর আগে দাবি করেন, জোট গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও আরও সাতটি গভর্নরেটে ১০৫টি বিমান হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬৯টি।
অন্যদিকে সারে এক্সে এক পোস্টে দাবি করেন, হুথিরা আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর ও সীমান্তের দুই পাশে সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি অভিযান চালিয়েছে।
শুক্রবার তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। হুথিরা এর জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে, আর ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীকে ওই স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হুথিরা সৌদি বন্দরগুলোতে অবরোধ ঘোষণা করার পর গত জুলাইয়ে ওই যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।


