তুরস্কে শুরু হচ্ছে কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলন, থাকছে না যুক্তরাষ্ট্র

তুরস্কের আন্তালিয়ায় শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১। ৯ থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৯০টির বেশি দেশের সরকারপ্রধান, মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। তবে এবারের সম্মেলনে থাকছে না যুক্তরাষ্ট্র।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ১৯৬টি মূল স্বাক্ষরকারী দেশের প্রায় সবাই সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। একমাত্র ব্যতিক্রম যুক্তরাষ্ট্র, যার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্যারিস চুক্তি থেকে দেশটিকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
এবারের সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক হলেও আনুষ্ঠানিক আলোচনায় সভাপতিত্ব করবে অস্ট্রেলিয়া। দুই দেশ সভাপতিত্ব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর এক সমঝোতার মাধ্যমে এই ব্যবস্থা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়া আনুষ্ঠানিক আলোচনার দায়িত্বে থাকবে, যেখানে 'ন্যায্য রূপান্তর', জলবায়ু অর্থায়ন এবং প্যারিস চুক্তির তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যে বিশ্বকে সঠিক পথে রাখার মতো কর্মসূচির খুঁটিনাটি নিয়ে দর কষাকষি হবে।
তুরস্ক দেখভাল করবে 'অ্যাকশন এজেন্ডা'র, যেখানে প্যারিস লক্ষ্য অর্জনে স্বেচ্ছামূলক চুক্তিগুলো থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বর্জ্য কমানো ও চক্রাকার অর্থনীতি গড়া, মিথেন কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—বিশ্ব অর্থনীতির বিদ্যুতায়ন।
প্যারিস চুক্তির ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য ইতিমধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে জাতিসংঘের যুক্তি, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন দ্রুত কমালে 'ওভারশুট' সীমিত করা যাবে এবং শতাব্দীর শেষ নাগাদ তাপমাত্রা আবার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে। এ জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা ভেঙে কম কার্বন প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করতে হবে।
ব্রাজিলের তৈরি দুটি রোডম্যাপ সেই পথ দেখাবে—একটি জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার রূপান্তর নিয়ে, অন্যটি বন উজাড় বন্ধ করা নিয়ে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জলবায়ু সংকটের দ্রুত বাড়তে থাকা প্রভাব মোকাবিলায় জরুরি সহায়তা দরকার। নেপালে বিপর্যয়ের পর দেশটিকে 'ক্ষয়ক্ষতি' তহবিলের সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর উদ্ধার ও পুনর্বাসনে কাজ করে। তবে তা যথেষ্ট নয়, আর দরিদ্র দেশগুলোর চরম আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে অবকাঠামো গড়ার সক্ষমতাও নেই।
এদিকে ধনী দেশগুলো বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে, আর সুদের হার বাড়ায় দরিদ্র দেশগুলোর ঋণের বোঝা আরও ভারী হচ্ছে।
২০২৩ সালে কপ২৮-এই প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত চুক্তিতে সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানির কথা উঠেছিল। সেখানে 'জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার' সংকল্প থাকলেও কোনো সময়সীমা বা পরিকল্পনা ছিল না। প্রায় সব পক্ষের ঐকমত্য লাগায় কপের এজেন্ডায় জীবাশ্ম জ্বালানি তোলা এখনো কঠিন, তবে এবার বাধ্যতামূলক নয় এমন একটি রোডম্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসবে।
ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ হলেও ভালো ফলের আশা রয়েছে। এর মধ্যে থাকতে পারে ব্রাজিলের পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার, জলবায়ু অর্থায়নে অগ্রগতি, আন্তঃসরকারি জলবায়ু পরিবর্তন প্যানেলের বিজ্ঞান নিয়ে চলা বিরোধের নিষ্পত্তি এবং জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর শ্রমিকদের কম কার্বন অর্থনীতিতে খাপ খাওয়াতে সহায়তার জন্য 'ন্যায্য রূপান্তর ব্যবস্থা' গড়ে তোলা।
আনুষ্ঠানিক আলোচনার বাইরেও অগ্রগতি সম্ভব। চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কয়েক ডজন উন্নয়নশীল দেশসহ ৬০টির বেশি দেশ কলম্বিয়ায় জড়ো হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার অঙ্গীকার করেছিল। কপ৩১-এ নতুন সদস্য যোগ দিয়ে এই 'ইচ্ছুকদের জোট' আরও বড় হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট সদস্য, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও সম্মেলনে যোগ দিতে পারেন।



