ক্রাকোতে বন্দুক হামলায় ছয়জন নিহত, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু

পোল্যান্ডের ক্রাকো শহরে বন্দুক হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কৌঁসুলিরা। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়ে কৌঁসুলি তোমাস ভাশচুক এবিসি নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য ঠিক এই ধরনের উদ্দেশ্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে।
আঞ্চলিক পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার ক্রাকোর বাজার চত্বরে গুলি চালানো হয়। হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে পুলিশ গুলি করে আহত করে। তাঁর বাড়িতে আরও তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে শনিবার জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক।
পোলিশ পুলিশ এবিসি নিউজকে নিশ্চিত করেছে, সন্দেহভাজন হামলাকারীর বাড়িতে পাওয়া তিন মৃতদেহ তাঁর ৫৩ বছর বয়সী বাবা, ৫২ বছর বয়সী মা ও ২১ বছর বয়সী বোনের। বাড়িটি অস্ট্রোভিয়েচ শভিয়েন্তোক্রিস্কিতে অবস্থিত। সেখানে বিস্ফোরক রেখে যাওয়া হয়েছে কি না, সেই আশঙ্কায় সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা সারা রাত বাড়িটি তল্লাশি করেন। আজ সকালে সেই অভিযান শেষ হয়।
ভাশচুক জানান, ক্রাকোতে নিহত ব্যক্তিদের ঘটনায় ছয়টি হত্যা মামলার অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে তাঁর বাবা-মা ও বোনের মৃত্যুর জন্যও হামলাকারী দায়ী, তবে সংখ্যাটি নয়টিতে পৌঁছাতে পারে।
সন্দেহভাজন ২৪ বছর বয়সী হামলাকারী রাতটি কাটিয়ে বেঁচে আছেন, তবে তাঁর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। পুলিশের মুখপাত্র কাতারজিনা চিসলো এবিসি নিউজকে বলেন, তাঁর বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার হয়েছে, আর চিকিৎসকরা তাঁকে বাঁচাতে যা যা করেছেন তার পরও তাঁর অবস্থা সংকটাপন্ন রয়ে গেছে।
পুলিশের ধাওয়া চলাকালে তাঁকে গুলি করা হয়। বর্তমানে তিনি সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারায় আছেন, তবে শারীরিক অবস্থার কারণে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে আটক করা হয়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে। কৌঁসুলিরা চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন—তিনি কখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যথেষ্ট সুস্থ হবেন।
আর কেউ জড়িত কি না জানতে চাইলে ভাশচুক বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সংগৃহীত প্রমাণ থেকে অন্য কেউ জড়িত বলে মনে হচ্ছে না। অবশ্যই আমরা যাচাই চালিয়ে যাব।’ তদন্তকারীরা হামলাকারীর পেছনের ইতিহাস খতিয়ে দেখছেন এবং একাধিক স্থান থেকে প্রমাণ পরীক্ষা করছেন।
পুলিশের মুখপাত্র আরও জানান, আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তাই রাতটি কাটিয়ে বেঁচে আছেন। একজনকে আজ সকালে চিকিৎসাজনিত কোমা থেকে জাগানো হয়েছে, অন্যজন এখনও চিকিৎসাজনিত কোমায় আছেন, তবে তাঁর অবস্থা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। কোন কর্মকর্তাকে জাগানো হয়েছে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে, আহতদের মধ্যে ১১ জন পোল্যান্ডের নাগরিক এবং পাঁচজন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন—অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, জার্মানি, ব্রিটেন ও রাশিয়া থেকে একজন করে। ক্রাকোর ছয়টি হাসপাতাল এবিসি নিউজকে এসব জাতীয়তা নিশ্চিত করেছে। আহত পোলিশ নাগরিকদের মধ্যে দুজনকে এর মধ্যে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে একজন ৩২ বছর বয়সী ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। নিহত এক নারীর পরিচয় এখনও শনাক্ত হয়নি, তাই নিহতদের মধ্যে আর কোনো বিদেশি নাগরিক আছেন কি না, তা পুলিশ এখনও বলতে পারছে না।
হামলাকারীর মুখোমুখি হয়ে গুরুতর আহত হওয়া সিনিয়র কনস্টেবল ইয়াকুব কুলিকের জন্য পুলিশ এবি আরএইচ পজিটিভ রক্তদানের আবেদন জানিয়েছে। তিনি প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছেন।
পোল্যান্ডের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্চিন কিয়েরভিনস্কি শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রাথমিক তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দুকধারী ‘কট্টর ডানপন্থী মতাদর্শে’ প্রভাবিত ছিলেন।
ক্রাকোর প্রধান চত্বরটি আজ সকালে আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, কারণ পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চিসলো বলেন, চত্বরটি কতদিন বন্ধ থাকবে, তা তিনি বলতে পারছেন না। পোল্যান্ড রোববার থেকে দুই দিনের শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে। এ সময় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।



