প্রায় অর্ধশতাব্দীর সেবার পর শেষ যাত্রায় স্কিলোনিয়ান-৩

প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ইংল্যান্ডের মূল ভূখণ্ড ও আইলস অব সিলির মধ্যে যাত্রী বহন করা স্কিলোনিয়ান-৩ জাহাজ রোববার তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন করেছে।
রোববার জাহাজটি সেন্ট মেরি দ্বীপ থেকে কর্নওয়ালের পেনজ্যান্স পর্যন্ত ৩৭ নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দেয়—এটাই ছিল তার শেষ যাত্রা।
১৯৭৭ সালে প্রথম যাত্রা শুরু করা জাহাজটি প্রায় ৪৯ বছর ধরে সেবা দিয়েছে। এ সময়ে সে ১০ হাজারের বেশি বার যাত্রা করেছে, দ্বীপবাসী, ছুটি কাটাতে আসা পর্যটক ও পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের বহন করেছে।
ঝড়ো আবহাওয়ায় জাহাজটি বেশ দুলত বলে তাকে ‘ভমিট কমেট’ নামেও ডাকা হতো। তবু দ্বীপবাসীর কাছে এটি ছিল অত্যন্ত প্রিয়।
জাহাজের প্রথম যাত্রায় থাকা টেরি ওয়ার্ড বলেন, সেদিনের যাত্রাটি ছিল সুন্দর। উত্তর ডেভন থেকে রাতের যাত্রা শেষে তাঁরা যখন পৌঁছান, তখন ঘাটে স্থানীয়রা ভিড় করেছিলেন জাহাজটি প্রথমবার দেখতে। ওয়ার্ডের প্রপিতামহ ছিলেন আইলস অব সিলি স্টিমশিপ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, যে কোম্পানি জাহাজটি পরিচালনা করে।
ওয়ার্ড বলেন, দ্বীপগুলোতে এর চেয়ে প্রিয় জাহাজ আর নেই। প্রতি বছর মার্চে জাহাজটি ফিরে এলে মৌসুম শুরু হতো বলে মনে হতো; মৌসুম শেষে জাহাজটি চলে গেলে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হতো।
ব্যবসায়ী রে জ্যাকম্যান জাহাজের প্রথম ও শেষ—দুটো যাত্রাতেই ছিলেন। তিনি সব সময় ইঞ্জিনরুমের পাশে বসতেন, কারণ নাবিকরা তাঁকে জাহাজের ভেতরের কাজকর্ম দেখাতেন। তাঁর ভাষায়, জাহাজটি খুব কমই বিকল হয়েছে এবং দ্বীপের মানুষের জীবনের বড় অংশজুড়ে ছিল।
শেষ যাত্রায় অল্প কয়েকজন যাত্রীর প্রত্যাশা করা হলেও টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। ম্যাকেরেল স্কাই নামের একটি শ্যান্টি দল গান গেয়ে জাহাজটিকে বিদায় জানায়; অন্য প্রান্তে কেপ কর্নওয়াল সিঙ্গার্স তাকে স্বাগত জানায়। পরে পেনজ্যান্সের ডক ইনে সংগীত, নাচ ও আড্ডা চলে।
জাহাজের ফেসবুক ভক্ত পাতার প্রতিষ্ঠাতা শলটো ব্ল্যাকওয়েল বলেন, এটি তাঁর জন্য একটি যুগের অবসান। প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের ওই পাতার প্রতিষ্ঠাতা ব্ল্যাকওয়েল ছোটবেলায় ছুটিতে সিলিতে যেতেন; এরপর থেকে তিনি ৩০ থেকে ৪০ বার যাতায়াত করেছেন। সমুদ্রে অসুস্থতা তাঁর অভিজ্ঞতার অংশ হলেও সিলিতে পৌঁছানোর আনন্দই ছিল আসল পুরস্কার।
স্কিলোনিয়ান-৩ ছিল দ্বীপগুলোর সেবায় আসা তৃতীয় যাত্রীবাহী জাহাজ। প্রথমটি ১৯২৬ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত চলেছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাতে কামান বসিয়ে সামরিক পরিবহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি ২৫ বছর চলার পর স্কিলোনিয়ান-৩ তার জায়গা নেয়; এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন প্রিন্স চার্লস।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নির্মিত স্কিলোনিয়ান-৪ এখন কেপ অব গুড হোপ হয়ে দ্বীপগুলোর দিকে আসছে। আগামী মার্চে তার প্রথম যাত্রা হবে; কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন জাহাজটি বেশি যাত্রী বহন করবে, দ্রুত চলবে এবং ঢেউয়ের দোল কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।



