পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে প্রথম ব্যাচের ১৩ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য, শিক্ষকশূন্য ৩১টি পদ

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় প্রথমবার অংশ নেওয়া ১৩ জন শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে ১৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও প্রথম ব্যাচের সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনা নিয়ে এলাকায় আলোচনা চলছে।
গত শনিবার উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর প্রতিষ্ঠানটির ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ১৩ জনই এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১২ জন ইলেকট্রিক্যাল ওয়ার্কস অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স ট্রেডের এবং একজন ইলেকট্রনিক কন্ট্রোল অ্যান্ড কমিউনিকেশন ট্রেডের শিক্ষার্থী ছিলেন।
কলেজ সূত্র জানায়, ২০২১ সালে দেবীগঞ্জ উপজেলা শহরে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একই বছর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। ২০২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণিতে ভোকেশনাল কোর্সে পাঠদান শুরু হয়।
এরপর ২০২৪ সালে এইচএসসি (ভোকেশনাল) পাঠদান শুরু হয় এবং ২০২৬ সালে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো এই পরীক্ষায় অংশ নেন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট শিক্ষার্থী রয়েছেন ৬৭৩ জন। শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে অনুমোদিত জনবল ৬৪ জন — এর মধ্যে শিক্ষকের পদ ৪৬টি ও কর্মচারীর পদ ১৮টি।
কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী। অর্থাৎ শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে ৪৩টি পদ শূন্য রয়েছে, যার মধ্যে শুধু শিক্ষকের শূন্য পদই ৩১টি।
প্রতিষ্ঠানটিতে পাঁচতলা ও চারতলা বিশিষ্ট দুটি একাডেমিক ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল চলতি বছরের মে মাসের শেষ দিকে দায়িত্ব নেন। তিনি মুঠোফোনে বলেন, ফল বিপর্যায়ের পেছনে অন্যতম কারণ শিক্ষকসংকট।
তিনি আরও বলেন, এখানে ভর্তি হওয়া বেশির ভাগ শিক্ষার্থীর পরিবার আর্থিক সংকটে থাকে। এ জন্য অনেক শিক্ষার্থী ভর্তির পর ঢাকায় বিভিন্ন পোশাক কারখানায় কাজ করতে যায়, যা ফল বিপর্যায়ের আরেকটি কারণ হতে পারে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জানান, এক বা দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার নতুন করে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে বলে তিনি শুনেছেন। সেই সুযোগে শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।




