টিআর প্রকল্প নিয়ে পিরোজপুরে বিএনপির দুই নেতার প্রকাশ্য বিরোধ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে সরকারি টিআর (টেস্ট রিলিফ) কর্মসূচির একটি প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির দুই নেতার বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে। একজনের নামে বরাদ্দ পাওয়া প্রকল্প অন্য ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
দৈহারী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব মো. লাভলু হাওলাদার গতকাল শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ভিডিওতে লাভলু হাওলাদার বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দৈহারী ইউনিয়নে ১৩টি টিআর ও কাবিখা প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে প্রথমে তাঁকে কোনো প্রকল্প দেওয়া হয়নি। পরে বিশেষ সুপারিশে তাঁর নামে একটি টিআর প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়।
লাভলুর অভিযোগ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে স্ট্যাম্প কিনে চুক্তি সম্পন্ন করতে বলা হলে তিনি প্রয়োজনীয় কাজ করেন। কিন্তু পরে পিআইও কার্যালয়ে গিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাছির উদ্দীন তালুকদারকে সেখানে দেখতে পান। একপর্যায়ে নাছির তাঁর প্রকল্পটি নিয়ে ইউনিয়নের অন্য একজনকে দিয়ে দেন।
ভিডিওতে লাভলু জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ঢাকায় চা বিক্রি করে এলাকায় রাজনীতি করেছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হয়রানির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বর্তমানে আর্থিক সংকটে থাকা লাভলু প্রকল্পের কাজ থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে দলীয় কার্যালয়ের ভাড়া ও নিজের কিছু খরচ চালানোর আশা করেছিলেন।
লাভলু অভিযোগ করেন, নাছির তালুকদার তাঁকে অবহেলা করে তাঁর নামে বরাদ্দ প্রকল্প অন্য ব্যক্তিকে দিয়েছেন। এ ছাড়া নাছিরের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পক্ষে সালিস-বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগও করেন তিনি। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন লাভলু।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছির উদ্দীন তালুকদার। তিনি বলেন, টিআর দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষমতা আমার নেই। বিষয়টি সরাসরি ইউএনও ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তদারকি করেন।
নাছিরের দাবি, লাভলু তাঁর কাছে টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন।
নেছারাবাদ উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মো. আব্দুল্লাহ আল বেরুনী সৈকত বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। হয়তো প্রতিমন্ত্রীও অবগত হয়েছেন। তিনিই বিষয়টি দেখবেন। তাঁর ভাষ্য, লাভলু হাওলাদার দলের একজন ত্যাগী নেতা এবং কিছুটা অসহায়।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিক আহমেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখব।
একজনের নামে বরাদ্দ প্রকল্প অন্যকে দিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, তা অস্বীকার করা এবং পাল্টা অভিযোগের মধ্যে বিষয়টি এখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার খোঁজখবরের অপেক্ষায় রয়েছে।


